সোম. মার্চ ৪, ২০২৪

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ.

স্বাস্থ্য সহকারীদের মানববন্ধনে বাগেরহাটে টিকাদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে সারাদেশে একযোগে হামরুবেলা-টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও স্বাস্থ্যসহকারীদের কর্মবিরতির কারণে বাগেরহাটে দুটি পৌরসভা ছাড়া সকল উপজেলায় এই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে টিকা দিতে না পেরে শিশুদের অভিভাবকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বেতন বৈষম্য নিরসন, টেকনিক্যাল গ্রেডসহ সাত দফা দাবিতে গেল ২৬ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন বাগেরহাট জেলার ১‘শ৬৫ জন স্বাস্থ্য সহকারী।

শনিবার দুপুরে তারা একই দাবিতে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এসময় হচ্ছে।এসময় বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিসট্যান্ট এ্যাসোসিয়েশন, বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপিত মোঃ আরাফাত শেখ, সাধারণ সম্পাদক এসএম রবিউল আলম, স্বাস্থ্য সহকারী সাইফুন নাহার, সঞ্জয় শিকদার, নাসরিন খানম, নুরুন্নাহারসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। স্বাস্থ্য সহকারীরা বলেন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে জেলায় এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের এক মহাসমাবেশে আমাদের (স্বাস্থ্য সহকারী) বেতন বৈষম্য নিরসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ২ জানুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। এছাড়া চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আমরা হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বর্জন করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালক আমাদের দাবি মেনে নিয়ে লিখিত সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করেন। সে অনুযায়ী আমরা এখনো কোনো সুবিধা পাইনি। আমাদের এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চাই। এদিকে টিকা দানের নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে সন্তান নিয়ে এসে টিকা না দিতে পেরে ফিরে যাচ্ছেন অভিভাবকরা।তারা বলছেন, বিভিন্ন টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা ও প্রচারের মাধ্যমে আমরা জেনেছি আজকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু হাসপাতাল ও বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ঘুরে দেকি কোন টিকাদান কর্মী নেই। সবাই বলছে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক অভিবাবকরা ফিরে যান।সরকারি কর্মচারীরা যদি এভাবে করে তাহলে আমরা কোথায় যাব।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, পূর্ব নির্ধারিত সময়ে আমরা বাগেরহাট ও মোংলা পৌরসভায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছি। কিন্তু স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে মোরেলগঞ্জ পৌরসভাসহ জেলার ৯টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা যায়নি। বাগেরহাট জেলায় ৩ লাখ ১৫ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে। ##

 

 

 

 

 

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *