মঙ্গল. ফেব্রু ২০, ২০২৪
শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
শরণখোলার সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে কোষ্ট গার্ডের (উপূকুল রক্ষা বাহিনী) দুই সদস্যর বিরুদ্ধে জেলেদের মারধর করে নগদ টাকাসহ ইলিশ মাছ লুট  করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১২ টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত লুটের ঘটনা ঘটে বলে জেলেরা জানান । এঘটনায় কোষ্ট গার্ডের সুপতি কন্টিনজেন্টের জরিত দুইজনকে বরখাস্তসহ সকল সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।
ভুক্তভোগী বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিন চরদুয়ানী গ্রামের আলম হাওলাদারের ছেলে এমাদুল হক জানান, মঙ্গলবার রাতে সুপতি কন্টিনজেটের মোঃ কাওছার ও মোঃ ইব্রাহিম নামের দুইজন  কোষ্ট গার্ডের সদস্য তার মাছ ধরা  ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে টহল দেয়ার কথা বলে বলেশ্বর নদীত নিয়ে যায়। এরপর রাত ১২ টা থেকে ভাের হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন জেলে নৌকায় গিয়ে মারধর করে নগদ টাকাসহ ইলিশ মাছ জোর করে নিয়ে আসে।
কোষ্ট গার্ড সদস্যরা এসময় পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিন চরদুয়ানী গ্রামের খলিল শিকদারের ছেলে রুবেল শিকদারের নৌকা থেকে ৮০ টি ইলিশ, মােঃ লতিফ খানের ছেলে বাবুল খানের নৌকা থেকে ৫টি ইলিশ, বেলায়েত খানের ছেলে রনি খানের নৌকা থেকে ১১টি ইলিশ, চান মিয়া খানের ছেলে রুবেল খানের নৌকা থেকে ৫টি ইলিশ, হামেজ ঘরামীর ছেলে ছোরাপ ঘরামীর নৌকা থেকে ৫টি ইলিশ মাছ নিয়ে যায় । এসময় আলতাফ আকনের ছেলে আব্বাস আকনের নৌকায় মাছ না পেয়ে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা ধার্য করেন তারা। এছাড়া জেলে নৌকা প্রতি ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা ধার্য করে বলে ভুক্তভােগী ওই জেলেরা জানান।
পরদিন সকালে জেলেরা মাছ লুটের ঘটনাটি বন বিভাগ ও কােষ্টগার্ডের্ পশ্চিম জােনের মোংলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের জানান। খবর পেয়ে সেখান থেকে কােষ্ট গার্ডের একটি দল ঘটনাস্থল সুপতি কন্টিনজেন্টে এসে জেলেদের কাছ থেকে শুনে ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন। পরে তারা জেলেদের ইলিশ মাছ ফেরৎ দেন এবং কােষ্ট গার্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে জেলে এমাদুল হক ওই দুই কােষ্টগার্ড সদস্যক চিহ্নিত করে ঘটনাটি ফাস করে দিলে তাকে বেদম মারধর করে আহত করা হয়। বর্তমানে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এমাদুল সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযােগ করেন।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের শরণখালা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মােঃ জয়নাল আবেদীন জানান, মাছ লুটের ঘটনাটি বুধবার সকাল জেলেরা তাদের জ্ঞানপাড়া ও চান্দেশ্বর টহলফাড়ির বনরক্ষীদের কাছে জানান। পরে ওই দুই টহল ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলেদের মহাজনরা তাকে ফোন করে এ ঘটনা জানান।
জানতে চাইলে কােষ্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জড়িত সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূরান্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *