শিরোনামঃ
শরণখোলায় ভাঙ্গা ব্রিজটি অপসারণ করেনি কর্তৃপক্ষ,দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা এমপি সালাহউদ্দিন জুয়েলকে মহানগর তাঁতীলীগের ফুলেল শুভেচ্ছা স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালন হচ্ছে কিনা সরজমিনে পরিদর্শনে অভিভাবক ফোরাম বেঁচে আসা হরিণ লোকালয় উদ্ধার,চিকিৎসা শেষে বনে অবমুক্ত সাংবাদিক সেলিম চৌধুরী আর নেই আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা বাগেরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন ট্রাকের ধাক্কায় বাগেরহাটে ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নিহত মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিভ্রান্তি দুর করতে জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি বাগেরহাটে ২০২৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বৃষ্টিতে প্লাবিত বাগেরহাট পৌরশহরসহ নিম্নাঞ্চল, শতশত পরিবার পানিবন্দী

উত্তাল সংবাদ ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
  • ৩৯

 

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত বাগেরহাট পৌর শহরসহ নিম্নাঞ্চল, শত শত পরিবার পানিবন্দী
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে অবিরাম বৃষ্টিতে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন শত শত পরিবার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বাগেরহাটের  শরণখোলা উপজেলায়। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় গড়ে ৯৩ দশমিক ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বর্ষাকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছে কৃষি বিভাগ।

শরণখোলা উপজেলার তালবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, রায়েন্দা বাজারের পূর্ব এলাকা ও বান্ধাকাটাসহ সাউথখালির বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ রয়েছেন চরম দূর্ভোগে। এদিকে বাগেরহাট পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা বৃষ্টির পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট। ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের ও পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।

এছাড়া শরণখোলার বলেশ্বর, মোরেলগঞ্জের পানগুছি, মোংলার পশুর, বাগেরহাটের ভৈরব, দড়াটানাসহ সকল নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর এলাকার শেখ বাদশা নামের একজন বলেন, রাতে বৃষ্টি হয়েছে। সকালে উঠে দেখি রাস্তায় হাঁটুপানি। অনেকের দোকানের ভিতরে পানি ঢুকে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকার সড়কে পানি উঠে যায়। এ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোন উদ্যোগও নেই। একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী মাঝিডাংগা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার সোহরাব হোসাইন রতন বলেন, শুধু বৃষ্টি নয় জোয়ার হলেই এলাকায় পানি উঠে যায়। দুর্ভোগে পড়তে হয় আমাদের। জলাবদ্ধতা নিরসনে লোক দেখানো নয় কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা রোধ করা যায়। না হলে আমাদের দুর্ভোগ কখনো যাবে না।বাগেহাট শহরের নাগেরজারে এলাকার  শেখ লাল মিয়া বলেন  অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারোনে বৃষ্টি হলেই আমাদের পানিতে বন্দি হয়ে থাকতে হয়।

শরণখোলা উপজেলার তালতলী এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সবুর বয়াতি, আবুল হারেস খানসহ কয়েকজন বলেন, বৃষ্টির ফলে আমরা ঘরে থাকতে পারিনি। ঘরের ভিতরে পানি উঠে গেছে। কখন পানি নামবে বুঝতেছিনা। রান্না-খাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে।

মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া গ্রামের রিয়াদুল ইসলাম, রাকিব হাসানসহ কয়েকজন বলেন, রাতেই আমাদের অনেক ঘের ভেসে গেছে। সকালের জোয়ারে পানি আরো বেড়েছে। ঘের থেকে মাছও বের হয়ে গেছে।

চিতলমারী উপজেলার বারাশিয়া বিলের মৎস্য চাষি জাহিদুর রহমান জানান, কয়েকদিন আগেই ইয়াসের পানিতে আমাদের ঘের-বাড়ি তলিয়ে যায়। অনেক টাকার মাছ ভেসে গেছে সেই সময়। এখন যদি ঘের আবার তলিয়ে যায় তবে আমাদের পথে বসতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাটে অবিরাম বৃষ্টিতে আউশ-আমনের বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে শরণখোলা উপজেলায়। এছাড়া জেলায় গড়ে ৯৩ দশমিক ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যদি এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকে তবে ফসলের ক্ষতির আশংকা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবীর জানান, সুন্দরবনে পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রজনন কেন্দ্র এলাকার পাকা রাস্তায় এক থেকে দেড় ফুট পানি ছিলো। তবে সকাল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ

সকল নিউজ সবার আগে পেতে লাইক দিন-

জনপ্রিয় পত্রিকাসমূহ