সোম. মার্চ ৪, ২০২৪

প্রতিনিধি বাগেরহাট।

বাগেরহাটে গ্রাম রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের শতাধিক চিংড়ি ঘের, ঘরবাড়িসহ লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। বিপাকে পড়েছেন কেশবপুরের শতাধিক পরিবার।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ভৈরব নদীর জোয়ারের পানির চাপে উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মুনিগঞ্জ সেতু সংলগ্ন এলাকার পাকা সড়ক ভেঙে যায়। এতে স্থানীয়দের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বসত ঘর ও রান্না ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে কেশবপুরের শতাধিক পরিবার। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ ও সবজি ক্ষেত। চুলোয় পানি ওঠায় অনেক পরিবার রান্নাও করতে পারেননি।
জুয়েল হাওলাদার, ফিরোজ হাওলাদার, নোমান হাওলাদারসহ স্থানীয়রা বলেন, ব্রিজের নিচ থেকে কিছু দূরে এসে গ্রামরক্ষা বাঁধের একটি অংশে নালা তৈরি হয়। জোয়ারের পানির চাপে ওই জায়গা থেকে পাকা বাঁধ (রাস্তা) ভেঙে যায়। পানি ঢুকে আমাদের পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। আমাদের অনেকের মৎস্য ঘের, সবজি ক্ষেত ও ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। ঘেরের মাছ ও সবজি ভেসে গেছে। করোনা পরিস্থিতিতে এই ক্ষতি কিভাবে পূরণ হবে জানি না।
হাসিনা বেগম, নাজমুন নাহার, নাছু বেগম বলেন, হঠাৎ করে পানি এসে বসত ঘর ও রান্নাঘর ডুবে গেছে। চুলোর মধ্যে পানি উঠে গেছে, রান্না করতে পারিনি। পানি না নামলে কিভাবে কি করব জানি না।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদুজ্জামান খান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাজিরপুর উপ-প্রকল্প নামে কেশবপুর এলাকায় একটি বেড়িবাঁধ ছিল। ১০-১২ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এখানে পাকা সড়ক করে। গ্রামে জোয়ারের পানি প্রবেশের জন্য কালভার্ট করা হয়। বাঁধের পাশে স্থানীয়দের চিংড়ি ঘেরে পানি চলাচল সচল রাখার জন্য বাঁধের নিচ থেকে ছোট ছোট পাইপ দিয়েছেন। এই পাইপ ও কালভার্টের ফলে বাঁধটি দুর্বল হয়েছে এবং ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যতদ্রুত সম্ভব এখানে বাঁধ সংস্কারের মাধ্যমে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করব।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *