বৃহঃ. ফেব্রু ২২, ২০২৪

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে এক সাথে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন কোহিনুর বেগম (২৯) নামের এক মা। বাগেরহাট শহরের দাসপাড়া মোড়স্থ দবির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে তার সন্তান প্রসব হয়। এর আগেও সিজারের মাধ্যমে দুই বারে তার দুটি বাচ্চা হয়। এবারে চিকিৎসকের আল্ট্রাসনোগ্রামে দুটি বাচ্চার বিষয় জানলেও সিজারে তিনটি বাচ্চা হওয়ায় অবাক হয়েছেন সবাই। বাচ্চারা সবাই সুস্থ্য রয়েছে। তবে তিন নবজাতক ও আগের দুই বাচ্চার ভরন পোষন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভ্যান চালক পিতা মোঃ আল আমিন মোল্লা।

তিন কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়া মা কোহিনুর বেগম বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধলনগর গ্রামের মোঃ আল আমিন মোল্লার ছেলে।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে দবির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, রবিবার (০৮ নভেম্বর) বিকেলে কোহিনুর বেগমকে তার স্বজনরা আমার হাসপাতালে ভর্তি করান। তার প্রসব বেদনা ছিল। আল্ট্রাসনোগ্রামসহ সব ধরণের কাগজপত্র পরীক্ষা করে আমরা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার অপারেশনের (সিজার) ব্যবস্থা করি। ৬টা ৫০ মিনিটে তিনটি কন্যা সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখে। আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে আমরা তার দুটি সন্তানের বিষয়ে অবহিত হই। তিনটি সন্তান হওয়ায় আমরা সবাই অবিভূত। নবজাতকরা সুস্থ্য রয়েছে। জন্মের সময় তিন জনের ওজন ছিল সাড়ে ৬ কেজি।

নবজাতকদের পিতা মোঃ আল আমিন মোল্লা বলেন, আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছিলাম এবার আমাদের দুটি বাচ্চা হবে। সিজারের পর জানলাম আমার তিনটি কন্যা সন্তান হয়েছে। আল্লাহর রহমত ছাড়া এরকম হয় না, এতে আমি খুব খুশি হয়েছে। তবে আমি ভ্যান চালিয়ে জীবন জীবীকা নির্বাহ করি। এছাড়াও আবির মোল্লা ও আনিষা নামের আমার দুই সন্তান রয়েছে। তারাও সিজারের মাধ্যমে হয়েছে। সংসার ও পাঁচ সন্তানের ভরন পোষন ও লেখাপড়া করানো একটু কষ্টের হবে আমার। যদি সরকারি বা বেসরকারি কোন সহযোগিতা পাই তাহলে আমার সন্তানদের ভালভাবে মানুষ করতে পারব।

নবজাতকদের মা কোহিনুর বেগম বলেন, আল্লাহ আমাকে একবারে তিনটি সন্তান দিয়েছে আামি খুব খুশি। আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে যা পায় তাতেই আমাদের সংসার চলে। তাই পাঁচ সন্তানকে মানুষ করা নিয়ে নিয়ে একটু শঙ্কা রয়েছে। শুনেছি প্রসূতি মা ও গরীবদের জন্য সরকার অনেক সহযোগিতা করে। সরকার যদি আমাদের কোন সহযোগিতা করতেন তাহলে আমরা সন্তানদের ভাল রাখতে পারব।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *