বৃহঃ. ফেব্রু ২২, ২০২৪

মাসুম হাওলাদার ;

বাগেরহাটের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য দেওয়া বরাদ্দ শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির
যোগসাজগে লোপাট হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে কাজ না করে ভুয়া ভাউচার করে
টাকা তুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন অনেকে। জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা
কর্মকর্তারাও সঠিক ভাবে জানেননা এই টাকা কিভাবে খরচ হয়েছে। এসব
অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম।বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলায় ১’হাজার ১৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর
মধ্যে ৯ উপজেলায় মোট ৩‘শ৯৬টি বিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র মেরামতের
জন্য ২ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু অনেক বিদ্যালয়েই কাজ না করে ভুয়া
ভাউচার দিয়ে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই
অভিযোগে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা মডেল সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন মীরু দূর্নীতি
দমন কশিন (দুদক) ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের
করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২লক্ষ,
স্লিপের ৫০ হাজার এবং সিএফএস-র ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। দূর্নীতি ও
স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক সাইদুল হক এই টাকা আত্মসাত করেছেন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে কোন আলোচনাও করেননি তিনি।
ওই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন মাসুম বলেণ,
প্রধান শিক্ষক সাইদুল হক দীর্ঘদিন এখানে আছেন। তিনি বিদ্যালয়ের টাকা
আত্মসাতসহ নানা প্রকার অনিয়ম করে থাকেন। স্থানীয় শাহজাহান আকন বলেন,
প্রধান শিক্ষক ১০-১২ বছর ধরে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রাতে প্রাইভেট পড়ান।
উপ-বৃত্তির তালিকা থেকে ইচ্ছেমত শিশুদের নাম কর্তন করেন। এসব বিষয় জানতে
চাইলে তিনি আমাদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন। শুনেছি এবছর স্কুলে বেশকিছু
টাকা বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু স্কুলে কোন কাজ করতে আমরা দেখিনি।এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাইদুল হক বলেন, মৌখিকভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটির
অনুমতি নিয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ করেছি।
টাকা খরচের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সব জানেন।
রায়েন্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গোলাম
মোস্তফা মধু বলেণ, বিদ্যালয়ে টাকা বরাদ্দ আসছে জানালেও খরচের বিষয়ে প্রধান
শিক্ষক আমাকে কিছু জানান নি। শরণখোলা উপজেলার দক্ষিন আমড়াগাছিয়া
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব খাদা ও পোলেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায় একই চিত্র। কাজ না করে
টাকা তুলে নেওয়ার একই অভিযোগ উঠেছে শরণখোলা উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া ৪৪টি
বিদ্যালয়ে। অন্যান্য উপজেলায়ও বেশ কিছু অনিয়ম রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা শিক্ষা
অফিস সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, ফকিরহাট উপজেলায় ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২২
বিদ্যালয়ে বরাদ্দ এসেছে। শিক্ষা অফিস জানিয়েছেন সবগুলো বিদ্যালয়ে কাজ
হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। চিতলমারীতে বরাদ্দ পাওয়া ৪৩টি বিদ্যালয়ে কাজ
চলছে। তবে বরাদ্দ পাওয়া টাকার কতটুকু কাজ হবে এ নিয়ে শঙ্কা আছে স্থানীয়দের
মাঝে। মোল্লাহাট উপজেলায় ৩৪ বিদ্যালয়ে বরাদ্দ পেলেও শিক্ষা অফিসের তথ্য
অনুযায়ী কাজ সহয়েছে মাত্র ৩১টি বিদ্যালয়ে। তবে এতেও রয়েছে নানা
অভিযোগ।বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৫৫টি বিদ্যালয়ে বরাদ্দ পেলেও কাজ হয়েছে মাত্র
৩টি বিদ্যালয়ে। অন্য বিদ্যালয় গুলোতে য়থা নিয়মে কাজ করা হবে, করোনার কারনে
দেরী হচ্ছে।
রামপাল উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া ৩৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩টি বিদ্যালয়ের কাজ
হয়েছে। অর্থ বছর শেষ হলেও অন্যগুলোর কাজ কবে হবে জানেনা উপজেলা শিক্ষা
অফিস। মোংলা উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া ১৪টি বিদ্যালয়ের কাজ চলছে। মোরেলগঞ্জে
বরাদ্দ পাওয়া ১০৪টি বিদ্যালয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিস।
তবে বাস্তবে কোন কাজ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কচুয়া
উপজেলায় ৪৭টি বিদ্যালয়ে বরাদ্দ আসলেও কাজ হয়েছে মাত্র ১৫টির। অন্যগুলোর কাজ
হবে কিনা শংকায় রয়েছে অভিভাবকরা।
অনিয়মের বিষয়ে কথা বলার জন্য শরণখোলা উপজেলা শিক্ষা অফিসে গেলে গনমাধ্যম
কর্মী পরিচয় পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম গা ঢাকা দেন।
পরবর্তীতে ফোন করলে তিনি ফোন কেটে দেন। তবে সহকারি উপজেলা প্রাথমিক
শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার বল বলেণ, এসব দেখার দায়িত্ব তার নয়। উপজেলা শিক্ষা
কর্মকর্তাই দেখবেন আর্থিক বিষয়গুলো।শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়মের যে বিষয় উঠেছে সেসব বিষয়ে অভিযোগ পেলে
আমরা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিব।
বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম বলেন, সরেজমিনে
গিয়ে মেরামতে কাজ দেখে বিল প্রদানের জন্য সকল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের
নির্দেশ দিয়েছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন
মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্তপূর্বক এসব
অনিয়মের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিব’।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *