সোম. মার্চ ৪, ২০২৪

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার.মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমিসহ পাকা ঘর পেলেন বাগেরহাট সড়কের পাশে ঝুপড়ি ঘরে থাকা বৃদ্ধ দম্পতি রতন বিশ্বাস (৮০) ও মনিরা বেগম (৬৫)।রাস্তার পাশের ঝুপড়ি থেকে পাকা ঘরে বৃদ্ধ দম্পতি প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমিসহ পাকা ঘর পেলেন বাগেরহাট সড়কের পাশে ঝুপড়ি ঘরে থাকা বৃদ্ধ দম্পতি রতন কুমার বিশ্বাস  ও মনিরা বেগম  বৃহস্পতিবার  দুপুরে বাগেরহাট ট্রাফিক মোড়-দাসপাড়া সড়কের মেগনিতলা এলাকার ঝুপড়ি ঘর থেকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি’র ব্যবহৃত গাড়িতে করে রনসেন গুচ্ছ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে নির্ধারণ করে রাখা দুই কক্ষের একটি পাকা ঘরে তুলে দেওয়া হয় ওই দম্পত্তিকে। বৃদ্ধ বয়সে পাকা জমিসহ পাকা ঘর, থাকার চকি, খাবার ও নতুন পোশাক পেয়ে খুশি অসহায় ওই বৃদ্ধ দম্পতি। এসময় বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের সহকারী সচিব এইচএম শাহিন, সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন, সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মাদ শহিদুল্লাহ, ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বাচ্চুসহ স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ঘর পেয়ে বৃদ্ধ রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু স্বীকৃতি পাইনি। আবেদন করেছি মন্ত্রণালয়ে কি হবে জানি না। বাবার যত সম্পদ ছিল মানুষে জোর পূর্বক জাল দলিল করে দখল করে নিয়েছেন। এখন আমার দখলে কোনও জমি নেই। দশ বছরের বেশি সময় মেগনিতলা রাস্তার পাশে একটি ঝুপড়ির মধ্যে থাকতাম। বিভিন্ন সময় অনেকেই অনেক কিছু দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কিছুই পাইনি। আজকে প্রধানমন্ত্রীর দয়ায় একটি পাকা ঘর পেয়েছি। মরার আগ পর্যন্ত পাকা ঘরে থাকতে পারব এই ভেবেই মনে খুব আনন্দ লাগছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে মরতে চাই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন রতন কুমার। রতন কুমারের মুক্তিযোদ্ধার আবেদনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম। এদিকে রতন কুমারের সহধর্মিনী অসুস্থ্য মনিরা বেগম বলেন, পৃথিবীতে কেউ নেই আমার। ১৫ বছর আগে তার (রতন কুমার বিশ্বাস) সাঙ্গে থাকা শুরু করি। কিছুদিন বেড়িবাঁধে থেকেছি। পরে দশ বছর ধরে খেয়ে না খেয়ে মেগনিতলার ঝুপড়িতে আছি। আজ পাকা ঘর পেলাম। জীবনে পাকা ঘরে থাকব তা কখনও ভাবতে পারিনি। আমরা খুব খুশি হয়েছি। রতন কুমার বিশ্বাস ও মনিরা বেগম দুইজনের বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার কালদিয়া গ্রামে। দুইজনেরই কোনও জায়গা জমি নেই। কোন সন্তানও নেই। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হলেও ১৫ বছর ধরে একইসঙ্গে বসবাস করে আসছেন ওই দম্পতি।

 

 

 

 

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *