সোম. মার্চ ৪, ২০২৪

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি.

হামলা ও গ্রেফতার এড়াতে বাগেরহাটের মোল্লাহাটের শাসন গ্রামের শতাধিক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।পুরুষদের পাশাপাশি জীবন ও সম্মান বাঁচাতে নারী ও শিশুরাও একধরণের পলাতক জীবন-যাপন করছেন। কেউ কেউ আবার এলাকা ছেড়ে আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান করছেণ।পুরুষ শূন্য পরিবারগুলোর মাঠের ফসলও ঘরে তুলতে পারছেন না প্রতিপক্ষের হুমকী-ধামকীতে।ফসলের পরিচর্যার জন্য শ্রমিকও যেতে পারছে না মাঠে।গত ০১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার)মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মামুন শেখ ও কিবরিয়া শরীফের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মামুন শেখের চাচা শাসন গ্রামের আসাদ শেখ নিহতের জেরে মামুন শেখের সমর্থকদের তান্ডবে শাসন গ্রামে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, আসাদ শেখ নিহতের পরে মামুন শেখের সমর্থকরা এলাকার শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর করে।মামুনের সমর্থকদের হামলা থেকে বাঁচতে অন্তত শতাধিক লোক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শনিবার (০৩ এপ্রিল)নিহত আসাদ শেখের মেয়ে মমতাজ বেগম বাদী হয়ে ৮৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২জনকে আসামী করে মোল্লাহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষ চেয়ারম্যান মুন্সি তানজিল হোসেনকে আসামী করা হয়েছে।পরবর্তীতে মামলাটি বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলায় এজাহার নামীয় আসামী সাবেক ইউপি সদস্য মিকাইল হোসেন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও রক্ষায় পায়নি মিকাইল চৌধুরীর বসবাস করা ভবন। ইউপি সদস্য প্রার্থী মামুন শেখের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক হামাড় দিয়ে মিকাইলের ভবন ভেঙ্গে ফেলে। ভাংচুর ও লুটপাট করে ভবনের মধ্যেও। ভেঙ্গে ফেলে ফ্রিজ, টেলিভিশন, খাটসহ মূল্যবান সামগ্রী। ভয়ে পালিয়ে গেছে মিকাইলের স্ত্রী সন্তান।শুধু মিকাইল চৌধুরীর বাড়ি নয়, শাসন গ্রামের সালাউদ্দিন চৌধুরী, এনামুল হোক চৌধুরী, একরামুল হোক চৌধুরী, কিবরিয়া শরিফ, ইউসুফ চৌধুরী, রফিক চৌধুরী, নাজমুল চৌধুরী, গাউস চৌধুরী, আমানত চৌধুরী, কালাম চৌধুরী, আবুল হোসেন চৌধুরী, এনামুল হোক চৌধুরী, লায়েব চৌধুরী, হানিফ চৌধুরী, কারিম চৌধুরী, আসাদ আলী সেখ,রজ্জব আলী সেখ,মিজান আলী সেখ, আশরাফ আলী সেখ, সাখাওয়াত ভূইয়া, মওলা সরদার,মর্তুজা সরদার,আইয়ুব আলী শিকদার, উজ্জল শিকদার, বাবু মোল্লা, আবেদ আলী ভূইয়া, ওবায়দুল ভূইয়া, হাসান ভূইয়া, বাচ্চু ফকির,শরিফুল ফকির,হাসান শরিফ,হুমায়ুন শেখ,ছবেদ মোল্লা, মুনসুর শরিফ,পলাশ শেখ,এশারত শেখসহ শতাধিক মানুষের বাড়িঘর ভাংচুর করেছেন ইউপি সদস্য প্রার্থী মামুন শেখের সমর্থকরা।পুরুষদের না পেয়ে ভাংচুরের সময় মারধরও করেছেন নারীদের।পুরুষ শূন্য পরিবারগুলোর নারীরাও রয়েছেন আতঙ্কে।মিকাইল চৌধুরীর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রওশন বেগম বলেন, আসাদ শেখ যে রাতে মারা যায়, ওই রাতেই তার ভাইপো মামুনের লোকজন এসে আমাদের অনেকের বাড়িঘর ভাংচুর করে।তালা ভেঙ্গে ঘরের মধ্যে থাকা মালামাল লুট করে নেয়, যা নিতে পারেনা সেসব ভাংচুর করে রেখে যায়।পরবর্তী তিন দিন এসে আমার ভাসুরের এই ভবন ভেঙ্গে দিয়ে গেছে তারা।আশপাশের যাকে সামনে পেয়েছে তাকে মারধর করেছে।নারীদেরও বাড়ি-ঘরে প্রবেশ করতে দেয়নি।মাহফুজা বেগম, হালিমা বেগমসহ আরও কয়েকজন বলেন, যেভাবে বাড়িঘর ভেঙ্গেছে তাতে বসবাস করার কোন অবস্থা নেই।ঘরের মধ্যে থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করেছেন, যা নিতে পারেননি সেসব ভাংচুর করেছে।ঘরের চালও কুপিয়েছে। ঘরের মধ্যের ল্যাপ, তোশক, বালিশ ও কাপড় চোপরেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল তারা। রান্নাঘরের হাড়ি-পাতিলসহ সব কিছু ভাংচুর করেছে তারা।স্বামী-ছেলে সবইতো পলাতক আছে। কি করব কিভাবে বাঁচব জানিনা।পলাতক দিনমজুর নাসির মোল্লার স্ত্রী বেবি বেগম বলেন, হত্যার পর থেকে আমার স্বামী পলাতক রয়েছে। মাঠে কিছু ধান রয়েছে, তাতেও পানি দিতে পারছি না। বাড়ি এসে বলে গেছে পানি দিয়ে হবে কি ধান তো আমরা নিয়ে যাব। শুধু বেবি বেগম নয় আরও কয়েকজন এধরণের অভিযোগ করেন।মুন্সী তানজিল হোসেনের সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ্। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তানজিল ভাই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নয়। তিনি এলাকার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তাকে আসামী দেওয়া হয়েছে বলে জানান মোল্লাহাট উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা। সঠিক তদন্ত পূল্বক এই মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবির বলেন, এলাকা এখন শান্ত রয়েছে। যেযার প্রয়োজনীয় কাজ করছেন।প্রতিদিন পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে।জেলা গোয়েন্দা পুলিশ হত্যা মামলাটি গ্রহন করায় তারা তদন্ত করছেন। এদিকে ভাংচুরের ঘটনায় হানিফের স্ত্রী হাফিজা বেগম ২৩জনকে আসামী করে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলাটিও আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছি বলে জানান ওসি।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *